উত্তরপ্রদেশে ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকারের জমানায় নারীদের নিরাপত্তা যে কতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা আরও একবার প্রমাণ করল লখনউয়ের এক নারকীয় গণধর্ষণের ঘটনা। লখনউয়ের সুশান্ত গলফ সিটি থানা এলাকার ঢিলছোড়া দূরত্বে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণীকে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে দু’দিন ধরে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে অপরাধীদের দাপট কতটা লাগামছাড়া, তা স্পষ্ট এই ঘটনায়, যেখানে খোদ থানার নাকের ডগায় দিনের পর দিন এমন পাশবিক অত্যাচার চললেও টের পায়নি প্রশাসন। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত তাঁর পাঁচ বছরের পরিচিত ও দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের ভুয়ো আইনশৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষার ফাঁকা বুলিকে সম্পূর্ণ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে দেশের অভিজ্ঞমহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জৌনপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী গত ১৬ মে জৌনপুর থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন। সেই সময় পাঁচ বছর ধরে চেনা এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয় শিবম যাদব তাঁকে লখনউয়ের চারবাগ রেলস্টেশনে নামতে বলে। পরিচিত হওয়ায় এবং রক্তের সম্পর্ক থাকায় তরুণীটি শিবমের কথায় রাজি হন। এরপর শিবম তাঁর অন্য দুই বন্ধু সানি যাদব এবং আরও এক সহযোগীকে নিয়ে ওই পরীক্ষার্থীকে সুশান্ত গলফ সিটি থানা এলাকার একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তরুণীকে জোর করে মাদক মেশানো ঠাণ্ডা পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করে দেওয়া হয় এবং এরপর টানা দু’দিন ধরে তিনজনে মিলে তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। ১৮ মে পর্যন্ত তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করার পর অপরাধীরা তাঁকে ছেড়ে দেয়। এই চরম মানসিক ও শারীরিক ট্রমার মধ্যেই কোনো রকমে দিল্লিতে পৌঁছে গত ২২ মে আনন্দ বিহার জিআরপি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা।
দিল্লি পুলিশ এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে একটি জিরো এফআইআর দায়ের করে বিষয়টি লখনউয়ের মহিলা সুরক্ষা ও অপরাধ শাখাকে জানায়। এরপর লখনউয়ের সুশান্ত গলফ সিটি থানায় মূল মামলাটি স্থানান্তরিত করা হয়। এডিসি আরপি বসন্ত কুমার জানিয়েছেন যে, ঘটনার পর থেকেই মূল তিন অভিযুক্ত পলাতক। তাদের গ্রেফতারের জন্য বর্তমানে পুলিশের চারটি বিশেষ দল গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অপরাধমুক্ত রাজ্যের বড় বড় দাবি করা বিজেপি সরকার যেখানে সামান্য এক ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীকে দেশের রাজধানীতে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, সেখানে সাধারণ মেয়েদের নিরাপত্তা কোন স্তরে রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যোগীরাজ্যে পুলিশকে অপরাধ দমনের চেয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে বেশি ব্যবহার করার ফলেই যে ধর্ষক ও দুষ্কৃতীরা এভাবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং থানার অদূরেই অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।


