বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্যের মাঝেই একের পর এক গুরুতর বিতর্কে জর্জরিত হচ্ছে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’। পর্দার ‘হামজা আলি মাজার’ খ্যাত অভিনেতা রণবীরকে ইতিমধ্যেই ফারহান আখতারের ‘ডন ৩’ ছবি সংক্রান্ত পারিশ্রমিক বিতর্কের জেরে বলিউডে নিষিদ্ধ করেছে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ। এই ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার ছবির অন্দরে নারীদের ওপর হওয়া ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল। সিনেমায় ভালো চরিত্রে অভিনয়ের টোপ দিয়ে নাগপুরের এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রোডাকশন ডিজাইনার জন জোসেফ ওরফে জোয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে চণ্ডীগড় পুলিশ। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো বিনোদন জগতেও যে নারীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই এবং নারীদের সুরক্ষায় কেন্দ্রের মোদী সরকারের তৈরি করা সমস্ত কড়া আইনের দাবি যে আসলে কতটা ফাঁকা, তা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।
নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৭ থানায় অভিযুক্ত জন জোসেফের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭৪, ৭৯, ১২৩, ১২৬(২) সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে নাগপুরের ওই তরুণী জানিয়েছেন যে, গত ২০২৫ সালে যখন চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৮-এর টেগোর থিয়েটারে ‘ধুরন্ধর’ ছবির শুটিং চলছিল, তখন প্রোডাকশন টিমের সদস্য জন জোসেফের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। জোয়েল তাঁকে ছবিতে বড় সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বলিউডের একাধিক নামী প্রজেক্টে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এরপর যোগাযোগের সূত্র ধরে গত ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে সেক্টর-১৭-এর একটি হোটেলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। শুধু তাই নয়, ঘটনা নিয়ে মুখ খুললে কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তরুণীকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সমস্ত ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত জন জোসেফকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। উল্লেখ্য, এই ‘ধুরন্ধর’ ছবির ইউনিটের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই এই ছবির সঙ্গে যুক্ত নাদিম খান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে এক গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। এ ছাড়া, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দশ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণা করার অভিযোগে ভার্সোভা ও মালভানি থানায় অন্য একটি মামলাও রুজু হয়। মোদী সরকার যখন দেশজুড়ে নারী শক্তির জয়গান গেয়ে রার কাজের জায়গায় নারীদের এই নারকীয় কাস্টিং কাউচ ও শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই ধরনের প্রভাবশালী চক্রের দাপট আরও বাড়বে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞমহল।


