বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় বদলের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মাদ্রাসা বোর্ড বাতিল করে তার জায়গায় নতুন একটি সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে ‘রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলির দেখভাল করা হবে। রাজ্যপালের অনুমোদনের পর সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া বিল আইনের মর্যাদা পেয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এরপর মাদ্রাসাগুলি সরাসরি উত্তরাখণ্ড স্কুল শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলবে। গোটা রূপান্তর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটিতে ১১ জন সদস্য থাকবেন এবং তাঁদের নেতৃত্ব দেবেন ডঃ সুরজিৎ সিং গান্ধী।
প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিক্ষার মান বাড়ানো এবং সব ছাত্রছাত্রীকে সমান সুযোগ দেওয়া। আগে যেখানে ধর্মীয় পাঠেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত, এখন সেখানে সাধারণ শিক্ষার বিষয়গুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান, গণিত, সমাজবিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে মাদ্রাসার পড়ুয়ারা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারে আরও বেশি সুযোগ পাবে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। মুসলিম সমাজের একাংশ এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এতে সংখ্যালঘুদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। উত্তরাখণ্ড মুসলিম সেবা সংগঠনের নেতৃত্ব বলছে, এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


