ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদামে আক্রমণ চালায় আমেরিকা। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকাকে এর জন্য পস্তাতে হবে।” তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন।
বিতর্ক শুরু হয় বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা নিয়ে। আমেরিকা ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করে। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ঘোষণা দেয়। মার্কিন পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্টোরেজ সুবিধা এবং রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এটিকে তারা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল জুন মাসের মাঝামাঝি। কিন্তু এখন তা ভেঙে পড়ার উপক্রম। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, আলোচনার দরজা খোলা আছে, কিন্তু হিংসার জবাব হিংসা দিয়েই দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত, কিন্তু সহিংসতার জবাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন।
এই ঘটনা ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের ধারাবাহিকতা। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ী নিহত হন। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০-২৫% এবং এলএনজির উল্লেখযোগ্য অংশের চ্যানেল। এর অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খবর এখনও স্পষ্ট নয়। উভয় পক্ষই আলোচনার কথা বলছে, কিন্তু সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে যদি উভয় পক্ষ আরও বড় পদক্ষেপ নেয়।


