উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগর জেলার খলিলাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসা ভাঙাকে ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওই মাদ্রাসা ভাঙার কাজ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী।জানা গিয়েছে, খলিলাবাদের মিট মাণ্ডি বা মোতি নগর এলাকায় তৈরি হওয়া ওই মাদ্রাসাকে অবৈধ নির্মাণ বলে দাবি করেছে যোগী প্রশাসন। কয়েকদিন আগেই মাদ্রাসা কমিটির করা আপিল খারিজ হয়ে যায়। এরপরই প্রশাসনের তরফে ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।উপজেলা শাসক হৃদয় রাম তিওয়ারি জানিয়েছেন, এই মামলায় আর কোনও আইনি জটিলতা বাকি নেই। আদালতেও কোনও মামলা বিচারাধীন নয়। সেই কারণেই প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৬৪০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি হওয়া এই মাদ্রাসার জন্য কোনও অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা ছিল না। পাশাপাশি সরকারি জমির একটি অংশও দখল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রায় আট বছর আগে এই ভবন তৈরি করা হয় বলে জানা গিয়েছে।পুরো ভাঙার কাজের তদারকিতে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক জয়প্রকাশ ও সার্কেল অফিসার প্রিয়ম রাজশেখর-সহ একাধিক আধিকারিক। প্রশাসনের তরফে এলাকায় কড়া নজরদারি রাখা হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।এই মাদ্রাসার সঙ্গে মৌলানা শামসুল হুদা খানের নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থাগুলির। তিনি আজমগড়ের বাসিন্দা এবং পরে ব্রিটেনের নাগরিকত্ব পান বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি বিদেশে থাকেন। তবে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনও ওই এলাকায় বসবাস করেন।অভিযোগ, বিদেশ থেকে বেআইনি আর্থিক সাহায্য এনে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এটিএস এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। স্থানীয় থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির পাকিস্তান সফরের তথ্যও সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ নির্মাণ ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনেও চলবে।
Popular Categories


