ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনা দেশের শিক্ষা কাঠামো নিয়ে নতুন করে চিন্তার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন পাঠন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।রাজ্যসভায় পেশ করা সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে যেখানে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৩২ হাজারের বেশি, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজারে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে সরকারি স্কুলের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের সস্তা ও সহজলভ্য শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিপিএম-এর সাংসদ জন ব্রিটাস। তিনি বলেছেন, সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের শিক্ষার অধিকারের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, সরকারি স্কুল কমে যাওয়া মানে দরিদ্র ও গ্রামীণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।অন্যদিকে, সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকছে। বেসরকারি স্কুলের সন্তানদের পড়ানো সকল পরিবারের ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়াতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ছাত্রসংখ্যা কমে যাওয়া, স্কুল একত্রিকরণ এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি শুধু সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গভীর কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিক্ষা যে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান ভিত্তি, তা মাথায় রেখে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন, কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারেই উদাসীন কেন্দ্র সরকার।


