মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতার পরিবেশ। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, লেবানন এবং জর্ডান একসঙ্গে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপের মূলে রয়েছে ইরানের প্রতিশোধের হুমকি। সম্প্রতি মার্কিন হামলার জবাবে প্রতিশোধের নেবার সংকল্পের ঘোষণা করেছে। গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র—ফরদো, নাতাঞ্জ এবং এসফাহানে—বোমা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই হামলায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এর জবাব দেবে। সোমবার ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার পরপরই কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
কাতারে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি রয়েছে, যেটি মার্কিন সেনা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পর থেকে অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা রুট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। বিমানবন্দরে যাত্রীরা আটকে পড়েছেন। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আকাশে নিস্তব্ধতা, আর মাটিতে নৃশংস বিশ্বযুদ্ধের উদ্বেগের ছায়া।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি বলেছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। এই হুমকির মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে, আর কাতারে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আকাশসীমা বন্ধ সাময়িক এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শান্তির পথে ফিরবে, নাকি আরও জটিল হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।


