ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী ২২ জুলাই দুপুরে বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যান। তবে মৃত্যুর আগে তিনি নিজের হাতে নজির বিহীন ইতিহাস গড়ে দিয়ে গেলেন। দুর্ঘটনার কবলে আটকে পড়া আতঙ্কিত শিশুদের প্রাণ বাঁচান শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী।
বিমান দুর্ঘটনার সময় স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে দিগ্বিদিক ছুটছিল, এমন সময় আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যেও বীরাঙ্গনা মেহেরীন অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে, প্রাণের পরোয়া না করে একে একে ১৫-২০ জন শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন। নিজের শরীর আগুনে দগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, বাচ্চাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন মেহেরীন। শেষ শিক্ষার্থীটি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটেননি ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বীরাঙ্গনা শিক্ষিকা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন নীরব এক সাহসী যোদ্ধা। এই আত্মত্যাগের ঘটনা আজ গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে।
মেহেরীন চৌধুরী আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ করলেন একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাজ শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো নয়, তাদের রক্ষা কর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জীবন দিয়ে তিনি শিশুদের রক্ষা করেছেন। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সেনাবাহিনী বলেছে, এই শিক্ষিকার কারণেই আমাদের সন্তান আজ বেঁচে আছে।”
আজ তাঁর নাম শুধুই একটি পরিচয় নয়; এটি এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। রাষ্ট্র হয়তো তাঁকে কোনও পদকে ভূষিত করবে না, যে ২০টি শিশু, শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরীর জন্য প্রাণে বাঁচল, তাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে তিনি চিরজীবী হয়ে থাকবেন।


