বিহারের সিওয়ান জেলায় পুলিশ হেফাজতে ২০ বছর বয়সী মুসলিম যুবক ফয়েজ আনোয়ারের মৃত্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। তার পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। ৩১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ফয়েজকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২ আগস্ট পুলিশ জানায়, সে হাসপাতালে আত্মহত্যা করেছে। ফয়েজের পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। তার বড় ভাই সাইফ আলি বলেন, “ফয়েজের শরীরে বলপূর্বক শ্বাসরোধ করার চিহ্ন ছিল। ঘাড়ে গভীর দাগ দেখা গেছে। পুলিশ তাকে মারধর করেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি ফয়েজের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। শেষমেশ দেখি, পুলিশ জেল থেকে একটি লাশ বের করে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাকে জানায়নি, সেটি আমার ভাই। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানি, ফয়েজ মারা গেছে। চিকিৎসকরা বলেন, পুলিশকে কারণ জিজ্ঞাসা করতে। কিন্তু পুলিশ শুধু বলে, ‘সে আত্মহত্যা করেছে’।”
ক্ষুব্ধ পরিবার হাসপাতালের বাইরে ফয়েজের লাশ রেখে বিক্ষোভ করে। তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে, কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও রিপোর্ট দেয়নি কর্তৃপক্ষ। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম লঙ্ঘন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফয়েজের মা জায়দা খাতুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশই তার ছেলেকে হত্যা করেছে। সাইফ আলি সিবিআই তদন্ত ও দোষী পুলিশদের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মানুষটার দাবি, পুলিশ হেফাজতে এমন মৃত্যু নতুন নয়। কিন্তু এবার পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যায়বিচার চাইতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


