ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হত্যা করেছে। আল-শরিফকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত করে আসছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বিশেষত মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি, যিনি তাঁকে “মিথ্যা প্রচার” ছড়ানোর অভিযোগে নিশানা করেছিলেন। এই হামলা ছিল সচেতনভাবে সাংবাদিকদের নীরব করার চেষ্টা। আল জাজিরা একে “সত্যকে স্তব্ধ করার মরিয়া পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছে।
আনাসের প্রতিবেদন বিশ্ববাসীর কাছে গাজার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিল। ক্ষুধা, বোমাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তিনি সত্যকে বিকৃত না করে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে হারানো, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি।
শরিফের শেষ বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, “আমি যন্ত্রণা ও ক্ষতির ভেতর দিয়ে বেঁচেছি, কিন্তু সত্য বলা থেকে বিরত হইনি। যদি এ লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছায়, জেনে নিন, ইসরায়েল আমাকে হত্যা করেছে।” তিনি তাঁর পরিবার—মা, স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব পাঠকদের হাতে সঁপে দিয়ে ফিলিস্তিনের মুক্তির শপথ রেখে গিয়েছেন।
শরিফের মৃত্যু শুধু একজন সাংবাদিকের সমাপ্তি নয়, বরং এক সাক্ষীর মুছে ফেলা, যে বিশ্বকে গাজার গণহত্যার সত্য জানাতে চেয়েছিল।


