বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে বিগত কয়েক মাস ধরে চূড়ান্ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। বাঙালি মুসলমানদের ভারতীয় হওয়ার প্রামাণ্য নথি এবং পরিচয় পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সামনেই আসন্ন ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিনরাজ্যগুলিতে বাংলার মুসলমানদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আদতে বাংলার সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধন ও সম্প্রীতির পরিবেশকে নষ্ট করতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
এবার কলকাতার বুকেও সংখ্যালঘু বিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিয়ালদহের কারমাইকেল হোস্টেলের সংখ্যালঘু ছাত্রদের উপর অমানবিক-নিপীড়নের পর এবার, টালিগঞ্জ স্টেশনের সামনে এক আতর বিক্রেতাকে বাংলাদেশী মুসলমান সন্দেহে অপমান ও নিগ্রহ করার ঘটনা সামনে উঠে আসছে। ঘটনা প্রসঙ্গে আতর বিক্রেতা মৈনাক দত্ত ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। মৈনাক লিখছেন, “দম আটকে আসছে। কোলকাতায় এটা আমার সাথে হবে এটা তো ভাবিনি।” এনবিটিভির এক প্রতিনিধি ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন আতর বিক্রেতা মৈনাক দত্তের সঙ্গে। মৈনাক এনবিটিভিকে জানিয়েছেন, “জন্মের পর থেকে আমি কলকাতার বাসিন্দা। বিগত দু-তিন মাস ধরে টালিগঞ্জের কাছে আতর বিক্রি করছি। বাবা ঘটনাটা কবে ঘটেছিল একটু জেনে নিলে ভালো হতো। ৩১ শে আগস্ট সন্ধ্যা নাগাদ এক অজ্ঞাত ব্যক্তি আমার কাছ আতর কিনতে আসেন। আতরের নির্ধারিত মূল্য না পোষালে হঠাৎ করে আমাকে বাংলাদেশী বলে অপমান করতে শুরু করেন। ওই ব্যক্তির এমন কুরিচি কর মন্তব্যের সমর্থন করেন আশেপাশে উপস্থিত মানুষজন। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি, তবে আমি ভাঙবো না।”


