উত্তর প্রদেশের সিদ্ধান্ত নগর থানার এলাকায় ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ১৩ জন বাঙালি ফেরিওয়ালা। রবিবার, ৭ই সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাদের পিক আপ ভ্যান থামিয়ে ইউপি পুলিশ গালিগালাজ ও শারীরিক হেনস্থার পাশাপাশি রাতভর থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।
জানা যাচ্ছে, ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনই ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের ফেরিওয়ালা। তারা বৈধ কাগজপত্রসহ পিক আপ ভ্যানে ড্রাম নিয়ে যাচ্ছিলেন বেহারাই জেলায়। হাইরোডে চেকিংয়ের সময় পুলিশ প্রথমে নাম জিজ্ঞাসা করে। বাংলা নাম ও ভাষা শুনে ফেরিওয়ালাদের বাংলাদেশি বলে অপমান করে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ। রাহিম সেখ নামে এক ফেরিওয়ালাকে পুলিশ বলে, “জুতো দেখেছিস? সোজা করে দেব।” শুধু তাই নয় অকথ্য ভাষার কথা বলা হয় বাংলার নিরাপরাধ ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে করা হয় চূড়ান্ত অপমান ও নির্যাতন। এরপর সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রীতিমতো ডাকাতের ভূমিকায় লক্ষ করা যায় উত্তরপ্রদেশের পুলিশকে। ১৩ জন নিরপরাধ বাংলাভাষী শ্রমিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন, ছিনিয়ে নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা, তারা যে গাড়ি করে যাচ্ছিল সেটাও বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে টাকা ফেরত পেলেও গাড়ি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিযায়ী শ্রমিকরা। থানায় রাতভর আটক রাখার পর সোমবার সকাল ১১টায় ছেড়ে দেওয়া হয় ১৩ জনকে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মারফত নির্যাতিত তেরো জন পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে একজন রহিম। রাহিমের বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। বাড়িতে ছোট বোনও আছে। পরিবার কিছুই জানত না। ছাড়া পাওয়ার পর সব জানানো হলে বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাহিম সহ আটজন এখন বাড়ি ফিরছেন। বাকিরা অন্যত্র রয়েছেন। রাহিম বলেন, “এভাবে যদি হেনস্থা করা হয়, তাহলে ইউপিতে আর ব্যবসা করব না। আমরা বাঙালি, তাই কি এভাবে হেনস্থা করা হলো?”


