ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নতুনভাবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার জেরুজালেমের পাশে মালে আদুমিম এলাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এই ভূমি আমাদের। কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না।” একই অনুষ্ঠানে তিনি ‘ই-১ প্রকল্পে’ স্বাক্ষর করেন। এই প্রকল্পে প্রায় ৩,৪০০টি নতুন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্প চালু হলে পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে ফিলিস্তিনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করে বসতি গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিগুলি অবৈধ বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইসরাইলকে এই বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে আগেই জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ইজরায়েলের এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের দাবি, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনই একমাত্র শান্তিপূর্ণ সমাধান।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। জার্মানি জানিয়েছে, তারা ফ্রান্স ও সউদি আরবের নেতৃত্বে রাষ্ট্রসংঘে আনা প্রস্তাবকে সমর্থন করবে, যেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও শরণার্থীদের ফেরার অধিকার চাওয়া হয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও মাল্টা ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে গাজায় চলমান সংঘর্ষে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তে দুই রাষ্ট্র সমাধান আরও কঠিন হয়ে উঠছে।


