ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী সোমবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারত সরকারের অবস্থান এখনও আইনি ও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। মিস্রী বলেন, “এ বিষয়ে দু’দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণের অনুরোধ করে। ভারতের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে অন্য কোনো মন্তব্য করা “গঠনমূলক নয়” বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিস্রী আরও বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে যে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে, ভারত সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং যাতে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে। মিস্রী বলেন, “বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ যে নিজে নির্বাচনের সময়সীমা উল্লেখ করেছে, তা আমাদের জন্য ইতিবাচক। আমরা দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।”
গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। সেই সময় তিনি ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করেছে। তবে মিস্রী স্পষ্ট করেছেন, বাণিজ্যে প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি এবং তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, উভয় দেশই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।


