Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

বিহারের মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর, মুসলিম শুন্য বাংলা চাইছে বিজেপি

সমগ্র দেশ জুড়ে চলছে মোদি এবং তার দলের স্বেচ্ছাচারিতা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের গণতন্ত্রের আড়ালে চলছে অ-গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ। বিজেপি স্বভাবশিদ্ধ ভাবে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে। তবে ভারতে বিরোগীদলগুলির তীব্র বিরোধিতা ও সাধারণ মানুষের সম্প্রীতি ও ঐক্যতার জন্য বারবার নস্যাৎ হচ্ছে বিজেপির হিন্দু রাষ্ট্রের পরিকল্পনা।

বছর পেরোলেই দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে ২৬ বিধানসভা নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে সমগ্র দেশে একনায়কত্ব স্থাপন করতে মরিয়া বিজেপি সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বিরোধীহীন দেশ তৈরি করতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

সাম্প্রতিক ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের সারা দেশজুড়ে শোরগোল তৈরি হয়েছে। তথ্যটিতে দাবি করা হচ্ছে আসমুদ্র-হিমাচলে গেরুয়া তন্ত্র কায়েম করার জন্য খুব সুপরিকল্পিত ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভারতের বসবাসকারী মুসলিমদের। নাম বাদ দেওয়ায় প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে বিহার থেকে। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এক ভয়ংকর ছবি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে , ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এস আই আর) আড়ালে বহু মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করা হয়েছে রিপোর্টে। পরিসংখ্যান বলছে, বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২০২টিতেই মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। গড় হিসাব অনুযায়ী, একজন মুসলিম ভোটারের তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা একজন অ-মুসলিমের থেকে প্রায় ১.৬৭ গুণ বেশি। এর মধ্যে ৫৫টি কেন্দ্রে সেই হার দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ করে সুরসন্দ, ফোরবেসগঞ্জের মতো এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। বরং এটা সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের টার্গেট করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।

এই পরিস্থিতির পর এবার আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গে। কারণ এখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২৭%। প্রশ্ন উঠছে, বিহারের এই মডেল কি এবার পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে চলেছে?
বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম প্রধান জেলাগুলোতে যদি একইভাবে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়, তাহলে বলা যেতেই পারে, বাংলার মুসলিমদের ঘাড়ের উপর বিজেপির খাড়ার ঘ।
ভোটার তালিকা থেকে মুসলিমদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি সরাসরি মৌলিক অধিকার হরণ। যদি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ানো যায়, তাহলে আগামিদিনে বহু মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারাতে পারেন। এটি নিছক বিহারের ঘটনা নয় এটি গোটা দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত!

রাজ্যে এসআইআর প্রয়োগ প্রসঙ্গে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিমদের মৌখিক আশ্বাসন দিলেও, তা কি আদেও বাস্তবায়িত করতে পারবে তৃণমূল সরকার? জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories