মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক। অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। ইংরেজবাজার ব্লকের সীমান্তবর্তী জাদুপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু বাসিন্দার নাম হঠাৎই বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা উষা মণ্ডলের স্বামী তপন মণ্ডলও।
উষা মণ্ডল জানান, “আমার স্বামীর নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও। শুধু উনিই নন, আমাদের গ্রামের আরও অনেকের নাম মুছে ফেলা হয়েছে, এটি হিন্দু অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকা, ফলে গ্রামজুড়ে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে ইচ্ছাকৃত ভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি শুভময় বসু বলেন, “বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করছে। আমরা কোনওভাবেই বৈধ ভোটারদের নাম মুছে ফেলতে দেব না।”
অন্যদিকে, বিজেপির দক্ষিণ মালদা জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ যাবে না। তবে অবৈধভাবে যুক্ত রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি মুসলমানদের নাম অবশ্যই বাদ পড়বে।”একইরকম অভিযোগ উঠেছে চাঁচলেও। সেখানে ভ্যানচালক শ্যামল দাস দেখতে পান, তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভোটার তালিকায়, যদিও তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তিনি জানান, “আমি জীবিত, অথচ প্রশাসন আমাকে মৃত দেখিয়েছে।”


