মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের নতুন অধ্যায় তৈরি করলেন। প্রথম দক্ষিণ এশীয়, প্রথম মুসলিম এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে নিউ ইয়র্কের মেয়র হচ্ছেন তিনি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে শহরের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন মামদানি। নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, মামদানি জিতলে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল তহবিল পাবে না। কিন্তু সেই হুমকি অগ্রাহ্য করে মামদানি রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া ও প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেছেন।উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি বড় হয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে। তাঁর মা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বাবা অধ্যাপক মেহমুদ মামদানি। তাঁর স্ত্রী রামা ডুয়াজি একজন পরিচিত শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের দৃঢ় আদর্শ ও সৎ মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী যখন ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের যুদ্ধ নিয়ে, ভারতের বিদেশ নীতিকে একটা পক্ষপাতহীন সিদ্ধান্তে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন ঠিক তখনই মামদানি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে প্রতিনিয়ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করছিলেন। শুধু তাই নয়, ভারতবর্ষকে সম্পূর্ণরূপে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করেতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদিকেও যুদ্ধ অপরাধী মনে করেন তিনি। মামদানিকে বহুবার প্রকাশ্যে প্যালেস্তাইনকে সমর্থন করতে দেখা গেছে। তিনি বহুবার প্যালেস্তাইনের অসহায় নিরীহ মানুষদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সততার সঙ্গে অসহায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের তীব্র বিরোধিতা করার কারণে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানির জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। স্বভাব সিদ্ধভাবে এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকে প্রতিনিয়ত ট্রাম্পের রক্ত চক্ষুর মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে মানুষের সমর্থন ও ভালবাসায় তিনি নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলমান মেয়র হলেন। এক বছর আগে সার্ভেগুলো বলছিল ১% মানুষ মামদানীকে সমর্থন করেন। তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে উনি ৫০%-র বেশী ভোট পেয়েছেন।
১% থেকে ৫০%! নিউ ইয়র্কের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলমান মেয়র হলেন জোহরান মামদানী
Popular Categories


