গাজায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এর ফলে সেখানে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষুধা, দুর্ভোগ ও আশ্রয়ের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সীমিতভাবে সীমান্ত খোলা থাকায় ত্রাণ সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ইসরাইলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে গাজায় যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থার মুখপাত্র আবির ইতেফা বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর ত্রাণ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। দ্রুত ত্রাণ সরানো না গেলে মানুষ না খেয়ে মরবে।”
ডব্লিউএফপি জানায়, বর্তমানে গাজাজুড়ে ৪৪টি কেন্দ্রে খাদ্য বিতরণ চলছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবু এটি পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উত্তর গাজার প্রবেশপথ এখনো বন্ধ থাকায় ত্রাণ কাফেলাগুলোকে দক্ষিণ দিকের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে হচ্ছে বলে জানা যায়।
গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাত্র ৩,২০৩টি ত্রাণ ও বাণিজ্যিক ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, অর্থাৎ দিনে গড়ে প্রায় ১৪৫টি ট্রাক। অথচ যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ট্রাক ঢোকার কথা ছিল।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও গাজাবাসীর ওপর ইসরাইলি সেনাদের হামলা থামেনি। মঙ্গলবার গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। জাবালিয়ায় গুলিতে মারা যান আরও একজন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৪০ জন নিহত ও ৬০৭ জন আহত হয়েছেন।


