দেশজুড়ে আবারও আরএসএসকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক ও মন্ত্রিসভার সদস্য প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, আরএসএসের কোনও সরকারি রেজিস্ট্রেশন নেই কেন? তাঁর বক্তব্য, কোনও সংগঠন যদি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কাজ করে, তাহলে তারা কীভাবে এত বড় পরিসরে আর্থিক লেনদেন চালায়, সেটা জনগণের জানা উচিত। এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
বেঙ্গালুরুতে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত বলেন, “দেশে এমন অনেক কিছু আছে যা রেজিস্টার্ড নয়, যেমন হিন্দু ধর্মতো রেজিস্টার্ড নয়।” মোহন ভাগবতের দাবি, আরএসএস কোনও অসাংবিধানিক সংগঠন নয়, বরং সংবিধানের আওতাধীন। তিনি আরও বলেন, “১৯২৫ সালে আমাদের সংগঠন শুরু হয়, আর স্বাধীনতার পর আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন করানো বাধ্যতামূলক নয়। আমরা ব্যক্তি নির্ভর সংগঠন।” তবে কংগ্রেস নেতা বি. কে. হরিলাসান ভাগবতের বক্তব্যকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর প্রত্যেক সংস্থারই সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ থাকা উচিত। আরএসএস নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগঠন বলে দাবি করে, তাহলে তাদের সদস্য তালিকা কোথায়? তাদের ব্যাঙ্ক হিসাব কোথায়?”
ভাগবত এ বিষয়ে জানান, আয়কর দফতরের সঙ্গে তাদের একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে আদালত রায় দেয় যে, আরএসএস স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করে এবং গুরুদক্ষিণা হিসেবে পাওয়া অর্থ আয়করের আওতায় পড়ে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস নেতারা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার কারণে তারা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে।


