একটি ব্রিটিশ টেলিভিশনের তথ্যচিত্রে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ভয়াবহ স্বীকারোক্তি ফাঁস হয়েছে। ‘ব্রেকিং র্যাংকস ইনসাইড ইসরায়েল’স ওয়ার’ নামের এই প্রতিবেদনে সৈন্যরা নিজেরাই বলেছেন, তারা গণহত্যায় অংশ নিয়েছেন এবং অসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালিয়েছেন। এই তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি সেনাদের দেওয়া সাক্ষ্য দেখলে বিস্মিত হচ্ছেন অনেকেই। কিছু ইসরায়েলি সৈন্য তাদের অমানবিক কার্যকলাপে লজ্জা প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ খুব সহজভাবেই বর্ণনা করেছেন কীভাবে তারা যুদ্ধের নিয়মকানুন ভেঙে চলেছেন। একজন সৈন্য গাজার ভয়াবহ অবস্থার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, সেখানে শুধু গরম বালি আর চারিদিকে মৃতদেহের গন্ধ। কুকুরের দল মৃতদেহ খাচ্ছে। সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ট্যাঙ্ক কমান্ডার ‘ড্যানিয়েল’ বলেছেন, গাজায় কোনো অসামরিক মানুষ নেই—এই কথা বলে সৈন্যদের হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন ইয়োতাম ভিলক স্বীকার করেছেন, অসামরিকনাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর সব নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। একটি ভয়ঙ্কর কৌশলের কথাও জানা গেছে, যার নাম ‘মসকুইটো প্রোটোকল’। এই পদ্ধতিতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের শরীরে আইফোন বেঁধে দূরে থেকে হামাসের অবস্থান খুঁজে বের করা হয়। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈন্যদের বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন জানার দরকার নেই, শুধু ইসরায়েলি সামরিক চেতনা জানলেই হবে। ইহুদি ধর্মীয় নেতা আব্রাহাম জারবিভ গর্বের সঙ্গে দাবি করেছেন, প্রায় সব মসজিদ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা হয়েছে। মূলত গোটা সমাজকে মুছে দেওয়া হচ্ছে।

