হুগলি জেলার হালির কলাগড়ের বকুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের করিন্যা গ্রামে ভোটার তালিকা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কর্মসূচি নভেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্লক লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ করছে। সাধারণ ভাবে মনে করা হয়েছিল, এই প্রক্রিয়ায় খুব বেশি সমস্যা হবে না কিন্তু করিন্যা গ্রামের বাস্তব চিত্র তা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার বাসিন্দার মধ্যে বহু মানুষ দাবি করেছেন যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে তাদের নাম তালিকা থেকে উধাও। শুধু তাই নয়, অনেকের বাবা-মায়ের নামও তালিকায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করলেও সরকারি নথি থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিএলওরা জানিয়েছেন, নতুন ফর্ম ফিলআপের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই তবুও মানুষের আশঙ্কা কমছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতেও সমস্যা হচ্ছে। করিন্যা গ্রামের বুথ বিভাজন নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আগে এই এলাকা ৭১ নম্বর বুথের অন্তর্গত ছিল। পরে তা ভাগ হয়ে ২৯ ও ৭০ নম্বর বুথে পরিণত হয়। ফলে পুরোনো তালিকায় নাম থাকা অনেকেই এখন নিজেকে তালিকার বাইরে খুঁজে পাচ্ছেন।
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গণেশ মান্ডি জানিয়েছেন, বিষয়টি মেখলা নিবন্ধন দফতর সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিএলও ও বিডিও-র সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তবে নির্বাচন দফতর এখনো কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।
গ্রামবাসীরা বলেন, তাদের হাতে রেশন কার্ড, জমির দলিল, ভোটার আইডি—সব নথিই রয়েছে। তারপরও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা চিন্তিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ভুলত্রুটি সংশোধন ছাড়া সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর হবে না।


