উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় ফের উত্তেজনার আবহ। কৈলা দেবী মন্দিরের মহন্ত এবং হরি হার সেনার প্রধান ঋষিরাজ গিরি ঘোষণা করেছেন যে আগামী ১৯ নভেম্বর এক দিনের ‘হরি হার মন্দির পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। এই পদযাত্রায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করা হবে, যা যাবে শাহী জামে মসজিদ এলাকা দিয়ে।
হরিহর সেনার প্রধাদন ঋষি রাজ গিরি দাবি করেছেন, এই যাত্রা সম্পূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, এবং গত বছরের ১৯ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে হওয়া সমীক্ষার বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ। যদিও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তবুও তারা মসজিদের বাইরের এই পদযাত্রা আয়োজিত করে। অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে গাড়িতে করে মোতি নগর পর্যন্ত যাবেন, তারপর সেখান থেকে পায়ে হাঁটা শুরু হবে। তবে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে গিরি স্বীকার করেন, এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে জানা যায়।
এই বিতর্কিত স্থানের আইনি প্রেক্ষাপট পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আলাহাবাদ হাই কোর্ট আগেই সম্ভল জামে মসজিদকে ‘বিতর্কিত কাঠামো’ বলে উল্লেখ করেছে এবং হিন্দু পক্ষের দাবি বিবেচনা করে মসজিদের সমীক্ষার আদেশ বজায় রেখেছে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সমীক্ষার সময় যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের দাবি, এই পদযাত্রা ধর্মীয় আবরণে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদযাত্রা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বিতর্কিত স্থানে নিজেদের দাবি জোরালো ভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


