প্রায় তিন দশক কারাগারে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন মোহাম্মদ ইলিয়াস। ১৯৯৬ সালের মদিনগর–গাজিয়াবাদ বাস বিস্ফোরণ মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য । যার ফলে মোহাম্মদ ইলিয়াসকে বেকসুর খালাস করলো এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
১৯৯৭ সালের জুন মাসে লুধিয়ানার বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন ইলিয়াস। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে। কিন্তু গত ১০ নভেম্বর দেওয়া রায়ে বিচারপতি সিদ্ধার্থ ও বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণই আদালতে পেশ করতে পারেনি বলে জানা যায়।
আদালত উল্লেখ করে, এই বিস্ফোরণ ছিল অত্যন্ত নৃশংস তবুও আইনানুগ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। বেঞ্চ জানায়, ট্রায়াল কোর্ট একটি বড় আইনি ভুল করেছিল, পুলিশের রেকর্ড করা যে অডিও টেপকে ইলিয়াসের স্বীকারোক্তি হিসেবে ধরা হয়েছিল, তা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় প্রমাণ আইন ২৫ ধারায় পুলিশের সামনে দেওয়া স্বীকারোক্তি কোনভাবেই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারকরা বলেন, ওই অডিও বাদ দিলে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলাকে সমর্থন করার মতো কোনো প্রমাণই বাকি থাকে না। প্রসিকিউশনের বেশ কয়েকজন সাক্ষীও পরে নিজেদের বয়ান থেকে সরে আসেন এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে সমর্থন করেননি। ফলে অভিযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে। দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করা একটি বাস মদিনগর পুলিশের সামনে দিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ১০ জন, আহত হন ৪৮ জন। ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়, বাসের সামনের অংশে চালকের আসনের নিচে রিমোটের সাহায্যে সক্রিয় করা আরডিএক্স রাখা ছিল। এই হামলার জন্য পাকিস্তানি নাগরিক আবদুল মতিন ও তসলিমের সঙ্গে ইলিয়াসকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে ট্রায়াল কোর্ট তসলিমকে খালাস দিলেও ইলিয়াস ও আবদুল মতিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে তসলিমের খালাসের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করেনি রাজ্য। দীর্ঘ ২৮ বছর পর আদালতের রায়ে অবশেষে মুক্তির আলো দেখলেন ইলিয়াস যেখানে বিচারকরা স্পষ্ট বলেছেন, প্রমাণ না থাকলে দণ্ডও হতে পারে না।


