শনিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বেরেলি পিলিভিত বাইপাস এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় বেরেলি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডিএ)।জানা গিয়েছে মহম্মদ আরিফের মালিকানাধীন দুই তলা একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ভেঙে ফেলা হয় এই উচ্ছেদ অভিযানে। আরিফকে ইতেহাদ-এ-মিল্লত কাউন্সিলের প্রধান মৌলানা তৌকির রাজা খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। প্রশাসনের দাবি, কমপ্লেক্সটি সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়ায় আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কমপ্লেক্সটিতে ছিল ১৬টি স্থায়ী দোকান এবং আরও বেশ কয়েকটি ছোট দোকান। শনিবার সকালে ভারী পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে দোকানদারদের স্বল্প সময় দেওয়া হয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য। তারপরই বুলডোজার চালিয়ে গোটা কমপ্লেক্স গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে চক্ষুলজ্জা মুছে যায় বহু ব্যবসায়ীর জীবনের সঞ্চয়।
এই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে মুসলিম দোকানদারদের অনেকেই হতাশায় ভেঙে পড়েন। এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী বলেন, “আজীবন সঞ্চয় দিয়ে দোকানটা বানিয়েছিলাম। সরকার একে বেআইনি বলছে, কিন্তু সবাই জানে আরিফ ভাই মৌলানা তৌকির রাজার ঘনিষ্ঠ, সেই কারণেই এই অভিযান।” আরও এক দোকানদার প্রশ্ন তোলেন, “কেন শুধু মুসলিমদের দোকানেই বুলডোজার চলে? পাশের হিন্দুদের দখলদারিও তো বহু বছর রয়েছে।”
প্রশাসনের দাবি, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বেরেলিতে সংঘর্ষের পরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন বেআইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে নিয়মমাফিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের নামাজের পর “আই লাভ মহম্মদ” লেখা পোস্টার নিয়ে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়, লাঠিচার্জ ও পাথর ছোড়াছুড়িও হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকে মৌলানা তৌকির রাজার কাছের মানুষদের দোকান ও সম্পত্তির ওপরই বেশি করে প্রশাসনিক অভিযান চলছে। ফলে মুসলিম ব্যবসায়ীদের একাংশের মনে ক্ষোভ বাড়ছে।


