গুজরাটের ভাবনগরের দারুল উলুম আকওয়াদা মাদ্রাসায় ভাঙচুর অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা, সমাজকর্মী এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পদক্ষেপ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণেরই প্রতিফলন। বুধবার সকালে ভাবনগর পৌর কর্পোরেশন বিপুল নিরাপত্তা নিয়ে মাদ্রাসার হস্টেল ব্লক, কম্পাউন্ড হল এবং রান্নাঘরের অংশ ভেঙে দেয়। কর্পোরেশনের বক্তব্য, এই স্থাপনাগুলি ২৪ মিটার প্রশস্ত শহর পরিকল্পনার রাস্তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এদিন চারটি জেসিবি, তিনটি হিটাচি মেশিন এবং দু’টি ডাম্পার নিয়ে দলটি পৌঁছয়। সঙ্গে ছিলেন একশোর বেশি পুলিশ কর্মী। আচমকা প্রচুর নিরাপত্তাকর্মী দেখে স্থানীয়রা বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা এলাকা অবরুদ্ধ বলে মনে হচ্ছিল। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, কোনও ধরনের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা শামসুদ্দিন জানান, “ সতর্কতা ছাড়া আমাদের হস্টেল ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
স্থানীয় সমাজকর্মী ও বাসিন্দাদের মতে, ঘটনাটি শুধুমাত্র শহর পরিকল্পনার কাজ নয়। তাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের নানা জেলায় মুসলিম প্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসা, কবরস্থান বা সমাজকেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে বারবার আকস্মিক অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুজরাতের বিভিন্ন জেলায় জমি দখল বা পরিকল্পনার অজুহাতে মুসলিম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযান আগে বহুবার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পর্ককে আরও দুর্বল করে দেবে। এলাকার ইমাম করিম বলেন, “আমাদের শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এভাবে ভেঙে ফেলায় মানুষ ভীত হয়। আমরা আলোচনা ও ন্যায্য ব্যবহারের আশা করি।”


