ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কিরকুক থেকে বাগদাদের পথে যাত্রা করলে দূর থেকেই একটি পুরনো ও উঁচু মিনার চোখে পড়ে, যা দাকুক মিনার নামে পরিচিত। প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মিনারটি স্থানীয়দের কাছে আব্বাসীয় যুগের এক বিশাল মসজিদের শেষ চিহ্ন হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস অনুযায়ী, ১১০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যেই এটি নির্মিত হয়। প্রায় ২০ মিটার উঁচু এই মিনারটি আজও তার বর্গাকার ভিত্তির ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মিনারটির গায়ে ব্যবহৃত ইট ও জিপসাম সেই সময়ের আব্বাসীয় স্থাপত্যের বিশেষত্ব বহন করে। বাইরে রয়েছে সরল জ্যামিতিক নকশা, যা মধ্যযুগীয় ইসলামিক স্থাপত্যকে মনে করিয়ে দেয়। শুধু ধর্মীয় কাঠামো হিসেবেই নয়, অতীতে এটি বাগদাদ ও মসুলের মধ্যকার ব্যস্ত পথের যাত্রীদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবেও কাজ করত।
তবে আজ মিনারটি বেশ জীর্ণ। মিনারটির গায়ে ফাটল ধরেছে, চূড়ার কিছু অংশ ভেঙেও গেছে। চারপাশে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতি তো আছেই, পাশাপাশি মানবসৃষ্ট ক্ষতিও বাড়ছে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ জানিয়েছে, ইরাকে সাম্প্রতিক দুই দশকে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বাতাস, বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ওঠানামা মিনারটির ক্ষয় আরও দ্রুত করছে। তারা সতর্ক করেছে এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই এর ভেতরের কাঠামো গুরুতরভাবে নষ্ট হতে পারে।


