মালদার কালিয়াচক এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম কামাত। একসময় যেখানে ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকত না, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল দুর্বল। গ্রামে পড়াশোনার সুযোগ সুবিধা ছিল খুবই কম। অধিকাংশ মানুষ চাষবাস আর দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। সেই গ্রাম থেকেই উঠে এসেছেন আজকের সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। বয়স মাত্র ২৯। তিনি এই গ্রামের প্রথম চিকিৎসক। যার ফলে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গর্বিত এলাকাবাসী। সিলামপুর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরের এই কামাত গ্রামে কৃষক বাবা মনিরুল ইসলাম ও গৃহবধূ মা মাজেদা বিবির সংসারে বড় হন মোস্তাফিজুর। ছেলে একদিন ডাক্তার হবে, এই স্বপ্নই তাঁকে আগলে রেখেছিল পরিবার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর নিট পরীক্ষায় সফলতার মাধ্যমে। জৈনপুর হাইস্কুল, কালিয়াচক আবাসিক মিশন ও আল আমিন মিশনে পড়াশোনা করে তিনি ২০২০ সালে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
২০২২ সালে তিনি সিলামপুর হাসপাতালে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৪ সালে তাঁকে বিএমওএইচ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন শুধু কালিয়াচক-১ নয়, মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগরসহ আশপাশের বহু এলাকা থেকেও রোগী তাঁর কাছে আসে। প্রতিদিন ইনডোরে ৭০০–৮০০ এবং আউটডোরে প্রায় ১২০০ রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন বলে জানান তিনি। চাপ যতই থাকুক, রোগীদের সহজ করে সব বুঝিয়ে দেওয়া তাঁর অভ্যাস। এলাকার মানুষ বলেন, তিনি শুধু ডাক্তার নন, প্রয়োজনের সময়ে পরামর্শ দিতেও পাশে থাকেন। তাই অনেকের কাছেই তিনি আজ আলোর দিশারি। ডা. মোস্তাফিজুর বলেন, “নিজের এলাকায় কাজ করতে পেরে ভালো লাগে। চাই, সবাই সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাক। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নেই কালিয়াচক আরও এগিয়ে যাক।”


