উত্তরপ্রদেশ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথা আবারও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছেন বলে সন্দেহ, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তার বক্তব্য, রাজ্যের শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের আগে পরিচয়পত্র যাচাই করার আহ্বান জানান। যোগীর মতে, রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকদেরও দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা। আগের সরকারি সমীক্ষাগুলিতে দেখা গেছে, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পরিবারের উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো হিসেব বলছে, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকতে পারে। কোভিডের সময়ের পরে গ্রেপ্তারের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, নিরাপত্তা দপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযোগ তুলছেন এবং এলাকার কিছু অংশে অবৈধ বসতি বাড়ছে। দিল্লিতে ২০২০ এবং ২০২২ সালের অশান্তির পর কয়েকজন আটক ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ উঠেছিল, যা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
ভারত সরকার জানায়, রোহিঙ্গাদের দেশীয় আইনে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। স্বাধীন সংস্থাগুলোর মতে, দেশে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করেন। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি পরিচয়পত্রহীন বেশ কয়েকজনকে সীমান্তে ফেরত পাঠিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের দাবি, নাগরিকত্বপ্রমাণহীন মানুষের উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুসলিম রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বাড়ছে বলে তাদের আশঙ্কা।


