দেশের বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজের দাম রবিবার থেকেই কমতে শুরু করেছে। কারণ, ভারত থেকে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ, এখবর বাজারে পৌঁছাতেই দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ ঘাটতি আর আমদানি বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের ওপর চাপ ছিল ভালোই। নতুন সিদ্ধান্তে সে চাপ কিছুটা হলেও কমেছে।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দেশের বড় পাইকারি বাজারগুলোতে খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামের দ্রুত পতন দেখা যায়। একই দিনে প্রতি কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসা এবং নতুন করে আমদানির সম্ভাবনা, দুটো মিলেই ব্যবসায়ীদের অতি মজুত বা বেশি দামে কেনার প্রবণতা কমিয়েছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের পাইকারি বাজারে রবিবার ও সোমবার দামের উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। রবিবার ৭০ থেকে ৯০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হলেও আগের দিন তা ছিল ১১০–১২৫ টাকা। সোমবার দাম আরও কমে ৬০–৭০ টাকায় নেমে আসে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ১,৫০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ৫০ জন আমদানিকারককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, প্রতিজন সর্বোচ্চ ৩০ টন করে আনতে পারবেন। অনুমতির মেয়াদ থাকবে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।
বগুড়া থেকেও একই ধরনের দামের পতনের খবর পাওয়া গেছে। খবর বাজারে পৌঁছাতেই এক দিনে ৩০–৫০ টাকা কমে যায় দাম। রাজাবাজারে সোমবার পেঁয়াজ ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৫০ টাকা। নতুন পেঁয়াজ খুচরায় ৮০–৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে তিন মাস পর আবার আমদানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯০ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়েও অন্তত ১৫০ টন পেঁয়াজ এসেছে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক সমিতি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।


