নগদ লেনদেনে নিয়ম মানা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, কেন্দ্রীয় আয়কর দফতর নগদ অর্থের ব্যবহারে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। বিশেষ করে ২০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলে বিপদের সম্ভাবনা আরও বাড়ছে। কোনও ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে নগদে এমন লেনদেন করলে জরিমানা পৌঁছতে পারে পুরো অর্থের সমান পর্যন্ত। এমন কঠোর নিয়ম আর কোনও বিদেশি দেশের নয়, বরং ভারতেই কার্যকর।
আয়কর দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, কারও বাড়িতে হঠাৎ তল্লাশি করে যদি হিসাবের বাইরে নগদ পাওয়া যায়, তবে তার উপর দিতে হবে ৮৪ শতাংশ কর। কর্মকর্তাদের অধিকার রয়েছে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে জমা হয়েছে, তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করার। উত্তর সন্তোষজনক না হলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। গত কয়েক বছরে বহু রাজ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শিল্পপতির বাড়ি, বিভিন্ন জায়গায় এমন তল্লাশিতে বিশাল অঙ্কের নগদ উদ্ধার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের টাকা গোনার মেশিন পর্যন্ত এনে অর্থ গোনা হয়েছে।
তবে বাড়িতে কত টাকা রাখা যাবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, নগদ রাখার কোনও সীমা নেই। কিন্তু অর্থের উৎস অবশ্যই বৈধ হতে হবে এবং আয়কর রিটার্নে তার উল্লেখ থাকা জরুরি। নথি না থাকলে সেই অর্থকে ‘আয়-বহির্ভূত’ হিসাবে ধরা হবে। এই ধরনের নগদ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা আরোপের অধিকার রয়েছে সরকারের।
অন্যদিকে ব্যাঙ্কগুলিকেও নগদ লেনদেনের বিষয়ে নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে এক বছরে ১০ লক্ষ টাকার বেশি তোলা হলে ব্যাঙ্ককে সেই তথ্য আয়কর দফতরে পাঠাতে হবে। কারও নগদ উত্তোলন ২০ লক্ষ ছাড়ালে টিডিএসও কেটে নেওয়া হবে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে শুরু হতে পারে তদন্ত। সম্পত্তি কেনাবেচায়ও নগদ লেনদেনে কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। জমি বা বাড়ি বিক্রি করে কেউ ২০ হাজার টাকার বেশি নগদ নিলে সেই টাকার উপর পুরো ১০০ শতাংশ জরিমানা দিতে হতে পারে।


