দিল্লিতে বাড়তি দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকার। শীতের শুরুতেই যখন শহরের বাতাসের মান দ্রুত খারাপ থাকে খারাপতর হচ্ছে, তখন দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিপিসিসি) নতুন এক নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, শহরের কোনও হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা বা রাস্তার খাবারের দোকান আর তন্দুর ব্যবহার করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ বলেছে, কয়লা বা কাঠের তন্দুর থেকে যে ধোঁয়া বের হয়, তা দূষণ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই তন্দুরি রান্নার পদ্ধতি বদলে গ্যাস বা বৈদ্যুতিক উনুন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন দিল্লির ক্ষুদ্র খাবার ব্যাবসায়ীরা। দুঃশ্চিন্তার ঘন কালো মেঘ দেখা দিয়েছে খাদ্যরসিক মানুষদের মধ্যে। অনেকেরই মত, তন্দুরি রুটি, টিক্কা, কবাব বা তন্দুরি চিকেনের আসল স্বাদ আসে কয়লার আগুনে সেঁকার মধ্যেই। গ্যাস বা ইলেকট্রিক উনুনে সেই গন্ধ ও স্বাদ পাওয়া যায় না। ফলে খাদ্যরসিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শুধু দিল্লি নয়, বিশ্বের মানচিত্রে তন্দুরি খাবারের জন্যই শহরের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তাই অনেকেই ভাবছেন, এই নিষেধাজ্ঞা কি অন্য শহরেও চালু হতে পারে? দিল্লি সরকার যদিও বলছে, মানুষের স্বাস্থ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর শীতে দূষণ বেড়ে বিপদ তৈরি করে। তাই এবার খাবার রান্নার ওপরই কড়া নজর পড়ল। রেস্তরাঁ মালিকরা জানাচ্ছেন, এই নির্দেশ মেনে চলা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সাম্প্রতিক এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী রেখা গুপ্ত, দূষণ রুখতে রাজ্য জুড়ে জল স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসা মাত্র সমাজমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যস্পদ হচ্ছেন তিনি। বিরোধীদের দাবি, দূষণের উৎস সম্পর্কে একেবারেই অবগত নন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। মূলত পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ি, কারখানার কালো দূষিত ধোঁয়ার প্রভাবে বায়ু দূষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (WHO) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়ু দূষণের প্রভাবে দিল্লিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের আয় ৮ বছর কমে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। এই সমস্যার সমাধান কি সত্যিই জল স্প্রে বা তন্দুরীর উনুন নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সম্ভব? প্রশ্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির।


