অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলার বি. থান্দ্রাপাডুতে ডিআইইটি ইনস্টিটিউটের এক ১৭ বছরের দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইংরেজি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপ ও মানসিক অস্বস্তিই তাকে এই চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, মেয়েটি বহুদিন ধরেই ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা সামলাতে পারছিল না। বারবার বাড়ির লোকজনকে সে নিজের ভয় আর অস্বস্তির কথা জানাত। বন্ধুদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ মিলেছে। তারা জানিয়েছে, ক্লাসের পড়া বুঝতে না পারায় মেয়েটি প্রতিদিনই মানসিক চাপে ভুগত।
ঘটনার দিন সে অসুস্থতা দেখিয়ে ইনস্টিটিউটের ‘সিক রুম’-এ যায়। বন্ধুরা কিছুক্ষণ বাইরে থাকার পর ফিরে এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। এরপর ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। পরে দরজা ভেঙে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ছাত্রীটি দলিত সম্প্রদায়ের এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সে ইংরেজি বিষয় নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিল। বাবার কাছেও বারবার বলত, এই পড়া তার পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়। বন্ধুরা আরও জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতাতেও ভুগছিল সে। এতে তার মানসিক চাপে আরও বেড়ে যায়।
এই ঘটনার পর দলিত শিক্ষার্থীদের ভাষাভিত্তিক অসমতা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইংরেজি মাধ্যমে হঠাৎ প্রবেশ করতে বাধ্য হলে অনেক প্রান্তিক শিক্ষার্থীই মানিয়ে নিতে পারে না। তাই মানসিক সহায়তা, সংবেদনশীল পড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি আরও জোরদার করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।


