শনিবার সকাল থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উৎসবের আবহ। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিয়োনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী ভিড় জমিয়েছিলেন। অনেকেই চড়া দামে টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আনন্দ বদলে যায় ক্ষোভ আর হতাশায়।
সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটার সময় মেসির গাড়ি মাঠে ঢুকতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তবে গাড়ি থেকে নামার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মন্ত্রী, কর্তা ও আয়োজকদের বড় একটি দল মেসিকে ঘিরে ধরে। ফলে গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখার কোনও সুযোগই পাননি সাধারণ দর্শকেরা। স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনই ছিল তাঁদের ভরসা, কিন্তু সেখানেও পরিষ্কার করে কিছু দেখা যায়নি।
মেসি মাঠে ছিলেন মাত্র ১৫–২০ মিনিট। সেই সময়েও গ্যালারি থেকে একবারও তাঁকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমতে থাকে। মেসি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। গ্যালারিতে শুরু হয় ভাঙচুর। ভাঙা চেয়ার, বোতল ছোড়া পড়তে থাকে মাঠে। এক পর্যায়ে ফেন্সিং ভেঙে বহু দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, পরে নামাতে হয় র্যাফ। কিছু জায়গায় কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয়। তবু দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মাঠ কার্যত জনতার দখলে চলে যায়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ দৌড়চ্ছেন, আবার কেউ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
দর্শকদের অভিযোগ, পুরো আয়োজনটাই ছিল অগোছালো। তাঁদের মতে, মেসিকে কয়েক মিনিট মাঠ ঘুরিয়ে দিলেই সবাই তাঁকে দেখতে পেতেন। কিন্তু মন্ত্রী-কর্তাদের ভিড়ের কারণেই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা বঞ্চিত হলেন। চড়া দামে টিকিট কেটে এসেও প্রিয় তারকার মুখ দেখা গেল না—এই হতাশাই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়।
মেসির মতো তারকার সফর ঘিরে এমন ঘটনা কলকাতার ভাবমূর্তিতে আঘাত দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। উৎসবের বদলে যুবভারতী সেই দিন সাক্ষী রইল এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার।


