বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পটনায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানের সময় এক মহিলা আয়ুষ চিকিৎসককে শংসাপত্র দেওয়ার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী ওই মহিলাকে হিজাব সরানোর ইঙ্গিত করছেন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেই হাত বাড়িয়ে হিজাব নামিয়ে দেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে মুখ খুললেন জনতা দল (ইউ)-এর সাংসদ রামপ্রীত মণ্ডল। সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নীতীশ কুমারের মতো মহিলা সম্মানকারী নেতা দেশে আর নেই। তার দাবি, ভিডিওটি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। তবে যেভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
রামপ্রীত মণ্ডল বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এমন কাজ করতে পারেন, এটা ভাবাই যায় না।” তিনি আরও বলেন, বিহারে মহিলাদের উন্নয়নের জন্য নীতীশ কুমার যে কাজ করেছেন, তা নজিরবিহীন। জীবিকা দিদি প্রকল্প, মহিলাদের শিক্ষায় অগ্রগতি, পুলিশে নিয়োগ, সব ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সাংসদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিত ভাবে এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তার কথায়, বিরোধী দল এবং কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে বিষয়টিকে বাড়িয়ে তুলছেন। “নীতীশ কুমারকে ‘চাণক্য’ বলা হয়। তিনি মহিলাদের সম্মান করতে জানেন। এই অভিযোগগুলোর কোনও ভিত্তি নেই,” বলেন মণ্ডল।
তিনি স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী কোনও ভুল করেননি এবং অযথা বিতর্কে জড়াতে তিনি রাজি নন। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানো বন্ধ করার আবেদন জানান।
এদিকে, সংসদে সদ্য পাশ হওয়া বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল নিয়েও মুখ খোলেন রামপ্রীত মণ্ডল। তিনি বলেন, আগের প্রকল্পে মহাত্মা গান্ধীর নাম অপব্যবহার করা হচ্ছিল। নতুন বিল গ্রামীণ মানুষের জন্য উপকারী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


