ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ,এই দুই বিষয়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের মনেই এখন একটাই চিন্তা, ভোটার তালিকা থেকে যদি নাম বাদ যায়, তাহলে কি নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা তৈরি হবে। এমনকি এই প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার এসআইআর-এর আড়ালে সিএএ কার্যকর করতে চাইছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তার দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কারও নাম বাদ গেলেও তাতে বড় সমস্যা হবে না। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতা করার স্বার্থে যদি কিছু অসুবিধা মেনে নিতে হয়, তাহলে সেটাও করা উচিত।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুর আরও বলেন, যদি অবৈধভাবে থাকা রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি এবং মুসলিমদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে গিয়ে তার নিজের সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ সাময়িকভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তাতেও তিনি আপত্তি দেখছেন না। এই মন্তব্যের পরেই মতুয়া সমাজের মধ্যে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
একই সভা থেকে সিএএ নিয়েও কথা বলেন শান্তনু। তার বক্তব্য, সিএএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন এবং এটি কার্যকর করতে হলে কেন্দ্রকে সহযোগিতা করা দরকার। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড থাকলেই কেউ দেশের নাগরিক হয়ে যায় না। যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-র মাধ্যমে আবেদন করতে হবে বলেও জানান তিনি।
তবে শান্তনুর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বনগাঁ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ অভিযোগ করেন, সিএএ-তে আবেদন করাতে গিয়ে বিজেপি নেতা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে পারেন। তার কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গে কোনও রোহিঙ্গা নেই, এই সব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এর আগেও এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই সব বক্তব্য ঘিরে এখন মতুয়া সমাজের মধ্যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।


