আজমিরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে চাদর পাঠানো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছে সংগঠন হিন্দু সেনা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দরগাহে চাদর পাঠানো বন্ধ করা হোক।
সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এই আবেদন জানানো হয়। বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। হিন্দু সেনার আইনজীবী আদালতে বলেন, আজমির দরগাহের জায়গায় আগে একটি শিব মন্দির ছিল বলে তাঁদের দাবি। সেই সংক্রান্ত মামলা এখনো আদালতে চলছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী যদি দরগাহে চাদর পাঠান, তাহলে তাঁদের মামলার অবস্থান দুর্বল হতে পারে। পাশাপাশি, সরকারিভাবে একজন প্রধানমন্ত্রী কেন কোনও ধর্মীয় আচার পালন করবেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। আবেদনকারীদের আরও বক্তব্য, আজমিরের আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত এই মামলাটি আজ তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না।
জানা যাচ্ছে, চলতি বছরও দরগাহের বার্ষিক উরস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চাদর নিয়ে যাবেন। এই রীতি নতুন নয়। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সময় থেকেই সরকারিভাবে চাদর পাঠানো হয়ে আসছে। হিন্দু সেনার সভাপতি বিষ্ণু গুপ্তা এই পুরনো প্রথা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারি অর্থে ধর্মীয় কাজ বন্ধের কথাও তুলেছেন। একই সঙ্গে আজমির দরগাহ নিয়ে বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন, যা অতীতে বাবরি মসজিদ মামলার সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।


