অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় উত্তেজনার পরিস্থিতিতে সোমবার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তিন জন আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলনরত একদল বিক্ষোভকারী ওই দিন বিজেপি নেতা তুলিরাম রংহাংয়ের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
পশ্চিম কার্বি আংলং একটি আদিবাসী-অধ্যুষিত পাহাড়ি জেলা, যেখানে কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে। এই পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তুলিরাম রংহাং। তার ডংকামুকাম এলাকার পৈতৃক বাড়িতেই আগুন লাগানো হয়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়।
এই অশান্তির সূত্রপাত হয় পেহলাংপি এলাকায় চলা একটি অনশন কর্মসূচি থেকে। গত দুই সপ্তাহ ধরে নয় জন স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে অনশনে বসেছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল, পেশাদার চারণভূমি (পিজিআর) ও গ্রাম চারণভূমি – এ (ভিজিআর) উচ্ছেদ অভিযান। এই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই কার্বি আদিবাসী সংগঠনগুলির তরফে তোলা হয়ে আসছে। ২২ ডিসেম্বর পুলিশ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনশনকারীদের আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করে, অনশনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিহারি ও নেপালি সম্প্রদায়ের কিছু বাসিন্দার বাড়িতে হামলার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমান্ডো দলও এলাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অসম সরকারের মন্ত্রী রণোজ পেগু ও শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের হস্তক্ষেপের পর অনশনকারীরা অনশন স্থগিত করেন বলে জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে রাজ্য সরকার, কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদ ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক ডাকা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে একই ধরনের আন্দোলনের সময় তুলিরাম রংহাং চারণভূমি থেকে উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে যাদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই বিলম্বই ফের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


