মালদার বৈষ্ণবনগরে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের নতুন গঠিত দলের প্রার্থী হওয়ার পরই ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত মহিলা এই সিদ্ধান্তে হতাশ নন বলেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতিতে নামলে এমন পরিণতি হতে পারে, তা তিনি আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের জন্য একাধিক আসনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন তিনি। সেই তালিকায় মালদহের বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় মুস্তারা বিবির। অভিযোগ ওঠে, প্রার্থী ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত কারণ জানানো হয়নি।
মুস্তারা বৈষ্ণবনগরের বিননগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। আগে তিনি বীরভূমে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পরে বদলি হয়ে আসেন বৈষ্ণবনগরে। তাঁর স্বামী কুরবান আনসারির দাবি, রাজনৈতিক কারণেই স্ত্রীর কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মুস্তারার কথায়, “প্রার্থী হওয়ার জন্যই আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এতে আমি ভেঙে পড়িনি। এখন পুরোপুরি রাজনীতিতেই মন দেব।”
এই অভিযোগ নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ বলে জানা গিয়েছে। দলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলেন, হুমায়ুন কবীরের দল বা প্রার্থীদের নিয়ে তারা চিন্তিত নন। অন্যদিকে বিজেপি এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বলেছে, হুমায়ুন কবীরের দল তৃণমূলেরই ছায়া। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সহ-সভাপতি তারক ঘোষ জানান, তাঁদের লক্ষ্য বর্তমান সরকারকে সরানো, অন্য কোনও ছোট দলের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এতদিন সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দায়িত্ব সামলানো মুস্তারা এখন নিজেই ভোটের ময়দানে। তাঁর বক্তব্য, বৈষ্ণবনগরের মানুষই ঠিক করবেন গত পাঁচ বছরে এলাকার কতটা উন্নয়ন হয়েছে। তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেই দাবি করেছেন।


