রাজ্যে আজ থেকে শুরু হল ভোটার তালিকার এসএসআইআর (Special Summary Intensive Revision) প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করা। কিন্তু প্রক্রিয়া শুরুর দিন থেকেই তা ঘিরে প্রশ্ন, অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।
রাজ্যজুড়ে মোট ৩২,৩৪৪টি স্থানে যাচাই কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে ‘ডাউটফুল’ বা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এরা মূলত সেই ভোটার, যাদের ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনও তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি দেখানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে এখানেই আপত্তি তুলেছে ডিরেক্টরেট অব ভোটারস সার্ভিসেস (ডিভিএস) ও অন্যান্য সংগঠন। তাদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই জীবিত ও নিয়মিত ভোট দেওয়া নাগরিকদের নাম না জানিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হলে সমস্যায় পড়বেন সাধারণ মানুষই। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে চিঠিও দিয়েছে ডিভিএস।
সংগঠনের দাবি, আইন অনুযায়ী কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ প্রযুক্তির মাধ্যমে একযোগে বহু নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটাধিকার খর্ব করছে। বহু যোগ্য মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কথায়, “শনাক্তকরণের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। কড়া নজরদারির মধ্যে দিয়েই এই প্রক্রিয়া চলবে।” জানা গেছে, আট হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজারভারের নজরদারিতে এসএসআইআর চলবে। শুধুমাত্র অনুমোদিত ভোটার, ইআরও, এআরও, বিএলও ও পর্যবেক্ষকরাই যাচাই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ফটো ডকুমেন্টেশনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে মাঠের বাস্তবতায় আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। অনেক ভোটারেরই অভিযোগ, তাঁদের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে আগাম কিছু জানানো হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার যেন ক্ষুণ্ণ না হয়। এসএসআইআর প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই এই উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে রাজ্যের নানা প্রান্তে।


