কেরালার পালাক্কাড়ে দলিত এক পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। ছত্তিশগড় থেকে কাজের খোঁজে কেরালায় আসা ওই শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি–আরএসএস ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন নিহতের ভাই।
ভাঙা গলায় তিনি বলেন, যারা নিজেদের ‘জাতীয়তাবাদী’ এবং ‘ধর্মরক্ষক’ বলে দাবি করে, তারাই যদি জাত ও ধর্মের নামে মানুষ মারতে পারে, তবে সেই রাজনীতির জায়গা কোথায়? তাঁর সরাসরি দাবি—এই ধরনের সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করা হোক, যারা মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
পরিবারের অভিযোগ, কাজ করতে এসে তাঁদের ভাই কোনও অপরাধ করেননি। তবুও পরিচয়, জাত এবং সন্দেহের নামে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। একজন শ্রমিক—যিনি কেবল রোজগারের জন্য রাজ্য ছেড়েছিলেন—শেষ পর্যন্ত ফিরলেন কফিনে।
নিহতের ভাই বলেন, “আমার দাদা রাজনীতি করতেন না। তিনি শুধু কাজ করতেন। কিন্তু তাঁকে এমনভাবে মারা হলো যেন তাঁর জীবন কোনও মূল্যই রাখে না।” তাঁর কথায় উঠে আসে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ—পরিযায়ী শ্রমিক, দলিত এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন কতটা অসুরক্ষিত হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে।
এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, প্রশ্নের মুখে পড়েছে সমাজও। জাত, ধর্ম ও রাজনীতির নামে ক্রমবর্ধমান হিংসা কি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় কি রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে?
নিহতের পরিবারের আবেদন, এই হত্যাকাণ্ডকে আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে, একটি বড় সমস্যার অংশ হিসেবে দেখা হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শ্রমিককে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়, সেই নিশ্চয়তা চান তাঁরা।
এই মৃত্যু শুধু একজন মানুষের নয়—এ যেন মানবিকতারই পরাজয়।


