কেরলের কাসারগোড় জেলার মাঞ্জেশ্বরম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)-এর বিধায়ক এ.কে.এম. আশরফ অভিযোগ করেছেন, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) চলাকালীন মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ইআরও) দফতরে হাজির হয়ে আশরফ বলেন, গত নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে হারার পর বিজেপি এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করতে চাইছে। তাঁর দাবি, বুথ নম্বর ১২৮–এ প্রায় ৯০টি নাম মুছে ফেলার আবেদন নিয়ে বিজেপির এক জেলা নেতা অফিসে যান। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আবেদন অনলাইনে ফর্ম–৭-এর মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা।
আশরফের অভিযোগ, পরে সাতজনের নামে ফর্ম–৭ নোটিস জারি হয়। তাঁদের মধ্যে একজন মহম্মদ নামের ব্যক্তি বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বাস করছেন ও ভোট দিয়ে আসছেন। অথচ তাঁকে ‘ভারতীয় নাগরিক নন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। বাকি ছ’জনের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণ দেখানো হয়েছে।
“৬০–৭০ বছরের মানুষদের এভাবে টেনে আনা কি ঠিক?”—প্রশ্ন তোলেন আশরফ। তাঁর দাবি, প্রথমবারের ভোটারদের ক্ষেত্রেও নানান অজুহাতে আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান।
তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। কাসারগোড়ের জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচন আধিকারিক কে. ইম্বাশেখর জানান, আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া চলছে। মাঞ্জেশ্বরম কেন্দ্রে মোট ১২৩টি আবেদন শুনানি হয়েছে। তার মধ্যে ফর্ম–৭ সংক্রান্ত ছিল ৮টি এবং ফর্ম–৮ সংক্রান্ত ছিল ১১৫টি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নোটিস দিয়ে উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
জেলা শাসক জানান, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখা জরুরি। কেউ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে আইন অনুযায়ী আপিল করতে পারেন। রাজনৈতিক দল বা সাধারণ নাগরিকের আপত্তি তোলার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
উল্লেখ্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা চলছে। খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ২৪ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে সরকারি তথ্য। এই প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষেরই একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের আশঙ্কা, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক যোগ্য ভোটার বঞ্চিত হতে পারেন।
মাঞ্জেশ্বরমে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বহু পুরনো ভোটার নিজেদের নাম তালিকায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


