বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচারের মাঝেই বিহারে ফের ধরা পড়ল বাস্তবের ফাটল। রোহতাস জেলায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি একটি নতুন রোপওয়ে পরীক্ষামূলক যাত্রার সময়ই ভেঙে পড়েছে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি। কিন্তু যে প্রশ্ন উঠে এসেছে, তা শুধু একটি রোপওয়ের ভাঙন নিয়ে নয়—উন্নয়নের নামে নির্মাণের মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
চৌরাসন মন্দিরে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সহজ করা এবং ঐতিহাসিক রোহতাসগড় দুর্গে পর্যটকদের পৌঁছনোর সুবিধার জন্য বিহার রাজ্য পুল নির্মাণ নিগম লিমিটেড এই রোপওয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা কাজের পর অবশেষে পরীক্ষামূলক চালু হওয়ার দিনেই বিপত্তি ঘটে। ট্রায়ালের সময় চারটি ট্রলি তারের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় চলছিল। সেই সময়ই একটি জায়গায় সমস্যা দেখা দেয় এবং রোপওয়েটি ভেঙে পড়ে।
সংস্থার সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার খুরশিদ করিম জানান, পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত ওজনের কারণে ট্রলি এক জায়গায় আটকে যায়, সেখান থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত। তাঁর দাবি, এখনও রোপওয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কলকাতা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এনে পুরো লাইন খতিয়ে দেখা হবে। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা চালু করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণের সময় গাফিলতির ফলেই এই দুর্ঘটনা। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রাজেশ রাম সরাসরি দাবি করেছেন, এটি বিহার সরকারের দীর্ঘদিনের ‘দুর্নীতির অসুখ’-এর ফল। তাঁর বক্তব্য, নির্মাণকালেই মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু কমিশনের লোভে তা উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় নতুন করে ভাবনায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্ভাব্য পর্যটকেরাও। যে রোপওয়ে মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা ছিল, সেটিই যদি ট্রায়ালের সময় নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা ভরসা করবেন?
দুর্ঘটনায় কেউ আহত না হলেও, এই ভেঙে পড়া রোপওয়ে যেন উন্নয়নের দাবির ভিত কতটা মজবুত—সেই প্রশ্নটাই সামনে এনে দিল। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ছাড়া উন্নয়ন যে কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যায়, বিহারের এই ঘটনা আবারও তা মনে করিয়ে দিল।


