সীমান্ত মানেই কাঁটাতার, নজরদারি আর নিরাপত্তা—কিন্তু সেই সীমান্তেই এবার প্রশ্নের মুখে মানবিকতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) উত্তরবঙ্গের একটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৯ জন ভারতীয় নাগরিককে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুই পারেই।
জানা গেছে, সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম থেকে ওই ৯ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা দু’জনেই রয়েছেন। অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁদের ‘বিদেশি’ সন্দেহে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা ভারতের নাগরিক। কেউ কেউ বলছেন, কাজের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় তাঁদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু নাগরিকত্ব যাচাই বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই মানবাধিকার সংগঠন ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কি কাউকে দেশছাড়া করা যায়? নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য কি আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয়?
এ বিষয়ে সরকারি স্তরে এখনও বিস্তারিত কোনও বিবৃতি মেলেনি। তবে সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ডেকে আনে।
যাঁদের ঠেলে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন অজানা। পরিচয়হীন, দেশহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কিত। সীমান্তের কাঁটাতারের এপারে-ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোর প্রশ্ন একটাই—তাঁদের অপরাধ কী? নাগরিকত্বের প্রমাণ না শোনা পর্যন্ত কি তাঁদের কথা শোনারও অধিকার নেই?
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, নিরাপত্তার নামে মানবিকতা যেন হারিয়ে না যায়। সীমান্ত শুধু ভৌগোলিক রেখা নয়—সেখানে মানুষের জীবন, পরিচয় আর সম্মান জড়িয়ে থাকে।


