দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর হামলার ঘটনা যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন মহল। বহু ভাষা, ধর্ম ও জাতির মানুষের সহাবস্থানের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে ভারতের একাংশে ভিন্ন মত ও পরিচয়ের মানুষদের প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। সমাজবিদদের মতে, এতে দেশের ঐতিহ্যবাহী বহুত্ববাদী চরিত্র প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই ভূখণ্ডে আদিবাসী, দলিত ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি ছিল বহু প্রাচীন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে নানা জনগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস শুরু করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশও এই দেশেরই , যারা নানা সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তবুও বর্তমানে নাগরিকত্ব ও দেশপ্রেমের মাপকাঠি নিয়ে একপেশে ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে কিছু মানুষকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা বাড়ছে।
এই মানসিকতার প্রভাব পড়ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। জাতিভেদের পুরনো ব্যাধি নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দলিতদের উপর নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য এবং নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বহু মানুষের মতে, সংবিধানের সমতার আদর্শ থেকে দেশ ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে কাশ্মীরি ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শীতের মরশুমে কাশ্মীর থেকে বহু শাল বিক্রেতা দেশের নানা প্রান্তে যান। কয়েক দশক ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের উপর আক্রমণের অভিযোগ সামনে এসেছে। কখনও মারধর, কখনও ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু ব্যবসায়ী নন, বিভিন্ন রাজ্যে পড়তে যাওয়া কাশ্মীরি পড়ুয়ারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এই পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রবীণ নেতা ফারুক আবদুল্লাহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্রীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে এমন কিছু শক্তি সক্রিয় হয়েছে যারা দমনমূলক চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, এই ধরনের প্রবণতা দীর্ঘদিন টিকবে না এবং শেষ পর্যন্ত মানুষই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের কাশীপুরে এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতার উপর হামলার ঘটনায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে, দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আদৌ কতটা সুনিশ্চিত।


