এআইএমআইএম সভাপতি ও লোকসভা সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চিনের দাবি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চীনের হস্তক্ষেপের দাবি দেশের জন্য অপমানজনক, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানানো। ওয়াইসি সামাজিকমাধ্যমে লেখেন, “ভারতের সম্মান বা সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ট্রাম্প বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করেন এবং সেই প্রেক্ষিতেই সংঘর্ষ বিরতি সম্ভব হয়। এবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও অনুরূপ দাবি উত্থাপন করেছেন। ওয়াইসির মতে, ভারতের সম্মান রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিক্রিয়া জরুরি।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত এপ্রিল মাসে এক জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক অবনতিতে গেছে। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চার দিনের সশস্ত্র সংঘাত হয়। ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। সেই সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনিই দ্বিপাক্ষিক সংঘাত থামিয়েছেন। তবে ভারত সরকার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
ওয়াইসি আরও বলেন, “চীনের হস্তক্ষেপের দাবি এক ধরনের অপমানজনক পদক্ষেপ, যা ভারতের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ভারত সরকারকে অবশ্যই এমন ধরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করতে হবে।” তিনি আশ্বাস দেন, ভারতের স্বার্থের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ স্বীকৃত হওয়া ঠিক নয় এবং ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


