গাজিয়াবাদে পুলিশের এক সদস্যের আচরণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ অফিসার এক মুসলিম যুবকের পিঠে একটি মোবাইল ফোনের মতো যন্ত্র চেপে ধরে দাবি করছেন—এই যন্ত্রের সাহায্যে নাকি ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করা যায়। ভিডিওতে ওই যুবককে ‘বাংলাদেশি’ বলে সম্বোধন করতেও শোনা যায় পুলিশকে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, এই ঘটনা স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের উদাহরণ। তাঁর কটাক্ষ, “যে যন্ত্র দিয়ে পুলিশ নাগরিকত্ব পরীক্ষা করছে, সেটাই বরং ওই অফিসারের মাথায় লাগিয়ে দেখা উচিত—ওখানে আদৌ মস্তিষ্ক আছে কি না।”
যে যুবককে হেনস্তা করা হয়েছে, তাঁর নাম মহম্মদ সাদিক। তিনি বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রশ্ন করছে, “তুমি কি বাংলাদেশি? যন্ত্রে তো সেটাই দেখাচ্ছে।” উত্তরে সাদিক জানাচ্ছেন, তিনি বিহারের বাসিন্দা।
ঘটনাটি গাজিয়াবাদ পুলিশের অধীনে ঘটে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, এটি একটি ‘রুটিন এরিয়া ডমিনেশন ড্রাইভ’-এর সময়ের ঘটনা। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চাপের মুখে গাজিয়াবাদ পুলিশ তদন্তের নির্দেশ দেয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযান কোনওভাবেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য নয়। অস্থায়ী বসতিগুলিতে বসবাসকারীদের তথ্য যাচাই, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়। তবু ওই অফিসারের আচরণ অনভিপ্রেত ছিল বলে স্বীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। কৌশাম্বির থানার ওসিকে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তীব্র। কংগ্রেস নেতা অজয় রাই বলেন, উত্তরপ্রদেশে আইনশাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রশাসন উপরতলার নির্দেশেই কাজ করছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলে ব্যঙ্গ করে বলেন, যদি সত্যিই এমন কোনও ‘যন্ত্র’ থাকে, তবে তা সংসদে আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত—নচেৎ সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বরখাস্ত করা দরকার।
আম আদমি পার্টিও ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে। দলের কর্মীরা সাদিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রায় এক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, “নিজের দেশেই আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে—এর চেয়ে অপমানজনক আর কী হতে পারে?”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তার নামে কি সংখ্যালঘু নাগরিকদের অপমান ও ভয় দেখানো স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? তদন্তের ফল কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর।


