আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন নিউইয়র্কের নব-নিযুক্ত মেয়র জোহরান মামদানি। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাকে ঘিরে ট্রাম্পের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মামদানি স্পষ্টভাবে বলেন, “সার্বভৌম কোনও দেশে হামলা যুদ্ধের সামিল, এবং ট্রাম্প সেই যুদ্ধেরই অংশ।”
মামদানির অভিযোগ, লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনায় নিউইয়র্ক শহরের বহু বাসিন্দা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নিউইয়র্কে বসবাসকারী হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান নাগরিকের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেয়র।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। যদিও সেই কথোপকথন খুব দীর্ঘ ছিল না, তবু তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। মামদানি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলেছি, এই ধরনের সামরিক আগ্রাসন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।”
উল্লেখ্য, শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগেও ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মামদানি। এবার সরাসরি সাংবাদিক সম্মেলনে একই সুরে কথা বললেন তিনি। তবে একই সঙ্গে মেয়র স্বীকার করেছেন, বিদেশনীতি নির্ধারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের উপর তাঁর সরাসরি কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবুও নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যাতে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাকেই তিনি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। এই মন্তব্যের পর আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


