উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পর্বের শেষে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ। তবে নতুন করে ঘরে ঘরে যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের পর প্রকাশিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা নেমে এসেছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নির্বাচন দফতরের দাবি, এই বাদ যাওয়া নামগুলির বড় অংশই প্রকৃত কারণে সরানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন আগে মারা গিয়েছেন, এমন প্রায় ৪৬ লক্ষেরও বেশি ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে কাটা হয়েছে। এছাড়াও একাধিক জায়গায় নাম থাকা প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া বা বহুদিন ধরে ঠিকানায় অনুপস্থিত এমন প্রায় দুই কোটিরও বেশি ব্যক্তির নামও খসড়া তালিকায় রাখা হয়নি।
এই তালিকা প্রকাশের পর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যেও প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। সমস্ত অভিযোগ, সংশোধন ও শুনানি পর্ব শেষ হলে আগামী ৬ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা। এত বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুলনা টানা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। সেখানে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল মোট ভোটারের প্রায় ৭ শতাংশের কিছু বেশি। উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে সেই হার অনেকটাই বেশি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আসন্ন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি শাসক দল ও বিরোধী উভয় পক্ষের মধ্যেই বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে।


