দিল্লির ঐতিহাসিক তুর্কমেন গেট এলাকায় গভীর রাতে চালানো বুলডোজার অভিযানে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিনের আলোয় নয়, মাঝরাতে প্রায় ৩০টি বুলডোজার একসঙ্গে নামানো হয়। দিল্লি পুরসভার এই অভিযানে একটি পুরনো মসজিদের একাংশ ও কবরস্থানের পাশে থাকা শতাধিক বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ, এই জমি ওয়াকফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চলার ছবি ও ভিডিও কয়েকজন স্থানীয় যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর ছড়াতেই স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। গভীর রাতেও তুর্কমেন গেট চত্বরে মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। খানিক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে গুজব তৈরি করেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ফইজ-ই-ইলাহি নামের মসজিদটি পুরো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, এই দাবি ঠিক নয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আদিল, আফান, শাহনওয়াজ, হামজা, আতাহার ও উবায়েদের নাম সামনে উঠে এসেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, বিক্ষোভের কারণেই মসজিদের পুরো অংশ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ভিডিও ও ছবিতে মসজিদের দেওয়ালে বুলডোজারের আঘাত লাগার দৃশ্য দেখা গেছে বলেও তাঁরা জানান। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের উপর পাথর ছোড়ার ঘটনায় মোট ৩০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনকে আগেই আটক করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, দাঙ্গায় উস্কানি ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এলাকায় বড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। পুলিশ সমাজবাদী পার্টির সাংসদ এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট মসজিদের ইমাম মহিবুল্লাহ নাদভিকেও তদন্তে যোগ দিতে সমন পাঠিয়েছে। দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী আশীষ সুদ জানিয়েছেন, জামা মসজিদ এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও দখল নিয়ে হাইকোর্টে অভিযোগ ওঠে। আদালতের নির্দেশে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই জমি ওয়াকফের এবং আইন মেনেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক বাসিন্দা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছেন।


