ইরানে ক্রমশ চলতে থাকা বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের কথা শুনতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেন দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই পরিস্থিতিকে অশান্ত করার সুযোগ না পায়।
গত তিন সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা শুরু হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে। পরে সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে বড় আকারের ক্ষোভে রূপ নেয়। ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পর এটিই দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে। তার দাবি, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি আরও খারাপ করার চেষ্টা করছে। শহরের একটি বাজারে হামলা ও কয়েকটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট জানান, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরকার জানে এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে তিনি সাধারণ নাগরিকদের দাঙ্গাবাজদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও মারধর করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অশান্তিতে ১০৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে কতজন আন্দোলনকারী মারা গেছেন, সে বিষয়ে সরকারি কোনও হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরান সরকারকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।


